বোন-ভাগ্নিকে নিয়ে সৌদি প্রবাসীকে হত্যা করেন প্রেমিকা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৫-২০২৬ ০২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৫-২০২৬ ০২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মুগদা মান্ডায় চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান পলাতক আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) শিবপুর উপজেলার জয় নগর এলাকায় তার বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
পরে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) যৌথ অভিযানে তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে মোকাররম মিয়া সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া না গিয়ে তিনি পূর্বপরিচিত তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে মুগদার মান্ডা এলাকায় তার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। রোববার (১৭ মে) মান্ডার একটি ভবনের নিচে ময়লার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব গত ১৮ মে মামলার আসামি হেলেনা বেগম এবং তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি হেলেনা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার দেখানো মতে মুগদা থানাধীন মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে ভিকটিমের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সময় বিভিন্নভাবে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। পরে মোকাররম টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামীকে ছেড়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তাসলিমা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি পান করান বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে তাসলিমা, হেলেনা ও হালিমা মিলে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মোকাররমকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ গুম করতে বাথরুমে নিয়ে দেহ খণ্ডিত করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে পলিথিনে মোড়ানো দেহাংশ ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তাসলিমা নিহতের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদী এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স